রিভিউ

Viber অ্যাপ রিভিউ: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, কাস্টম লেন্স এবং আন্তর্জাতিক কলিংয়ের চমৎকার মাধ্যম

Viber

আজকের দিনে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এবং এইচডি ভিডিও কলিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য অ্যাপ রয়েছে। এদের মধ্যে নিজস্ব কিছু ইউনিক টেকনিক্যাল ফিচার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কোটি কোটি মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে Viber (বা Rakuten Viber)। ব্যক্তিগত চ্যাটিং ছাড়াও কর্পোরেট যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক কলিংয়ের ক্ষেত্রে ভাইবার একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম।

আজকের এই বিস্তারিত রিভিউতে আমরা ভাইবার অ্যাপের প্রধান আধুনিক ফিচারসমূহ, এর সুবিধা-অসুবিধা এবং এটি কেন হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর একটি শক্তিশালী বিকল্প, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

Viber কী? (What is Viber?)

ভাইবার হলো একটি জাপানি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ‘Rakuten’-এর মালিকানাধীন ক্লাউড-ভিত্তিক ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, ভয়েস ওভার আইপি (VoIP) এবং ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি সফটওয়্যার, যা ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে অন্য যেকোনো ভাইবার ইউজারের সাথে মেসেজ, ছবি, ভিডিও এবং অডিও কল আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে। এটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস (iOS) ছাড়াও উইন্ডোজ এবং ম্যাক কম্পিউটারেও চমৎকারভাবে সিঙ্ক হয়ে চলে।

ভাইবার অ্যাপের প্রধান আধুনিক ও বৈপ্লবিক ফিচারসমূহ

১. ডিফল্ট এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (Default Security): হোয়াটসঅ্যাপের মতোই ভাইবারের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এর নিরাপত্তা। আপনার সাধারণ ওয়ান-টু-ওয়ান চ্যাট, ভয়েস কল এবং ভিডিও কলগুলো ডিফল্টভাবে সম্পূর্ণ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড (End-to-End Encrypted) থাকে। অর্থাৎ, আপনার চ্যাট অন্য কেউ বা খোদ ভাইবার কর্তৃপক্ষও পড়তে পারবে না।

২. ভাইবার আউট (Viber Out – গ্লোবাল কলিং): এটি ভাইবারের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফিচার। আপনার অপর প্রান্তে থাকা কোনো বন্ধুর কাছে যদি ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন না থাকে, তবুও আপনি খুব সামান্য ক্রেডিট বা টাকা খরচ করে বিশ্বের যেকোনো দেশের সাধারণ মোবাইল নাম্বার বা ল্যান্ডলাইনে সরাসরি ইকোনমিক্যাল রেটে কল করতে পারবেন।

৩. স্ন্যাপচ্যাট লেন্স ও এআর ফিল্টারস (Viber Lenses): স্ন্যাপচ্যাটের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে ভাইবার তাদের ক্যামেরার ভেতর অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) লেন্স যুক্ত করেছে। এর ফলে চ্যাটিং বা ভিডিও কল করার সময় সরাসরি চমৎকার সব কাস্টম ফিল্টার, ফানি ফেস এবং অ্যানিমেশন ব্যবহার করা যায়।

৪. হিডেন চ্যাট এবং সিক্রেট মেসেজ (Hidden Chats): আপনি যদি আপনার কোনো নির্দিষ্ট চ্যাট অন্যদের চোখ থেকে লুকিয়ে রাখতে চান, তবে পিন কোড (PIN) ব্যবহার করে চ্যাটটি হাইড করতে পারবেন। এছাড়া এতে রয়েছে সেলফ-ডেসট্রাক্ট টাইমার, যা সেট করে দিলে মেসেজ দেখার নির্দিষ্ট সময় পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।

ভাইবার অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা (Pros)

  • চমৎকার অডিও ও ভিডিও কোয়ালিটি: ভাইবারের ভয়েস ও ভিডিও কলের ক্রিস্টাল ক্লিয়ার কোয়ালিটি অন্য অনেক অ্যাপের চেয়ে অনেক বেশি স্ট্যাবল বা স্থিতিশীল।
  • বিশাল কমিউনিটি ও চ্যানেল সুবিধা: টেলিগ্রামের মতো ভাইবারেও আনলিমিটেড মেম্বার নিয়ে চ্যানেল এবং গ্রুপ তৈরি করা যায়, যা ডিজিটাল মার্কেটিং বা বিজনেসের জন্য দারুণ কার্যকর।
  • কোনো থার্ড-পার্টি ভিডিও অ্যাড নেই: ইমোর মতো ভাইবারের চ্যাট লিস্ট বা কলের মাঝে কোনো বিরক্তিকর পপ-আপ ভিডিও বিজ্ঞাপন আসে না, যার ফলে এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বেশ ক্লিন।

ভাইবারের কিছু অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা (Cons)

  • ভারী ইন্টারফেস ও স্টোরেজ খরচ: মূল ভাইবার অ্যাপটি সাইজে বেশ বড়। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর র‍্যাম খরচ করে এবং অনেক ক্যাশ ফাইল জমা করে ফোনের স্টোরেজ দখল করে ফেলে।
  • স্প্যাম বা প্রোমোশনাল মেসেজ: যদিও থার্ড-পার্টি ভিডিও অ্যাড নেই, তবে বিভিন্ন অফিশিয়াল ব্র্যান্ড বা কোম্পানির প্রোমোশনাল বিজনেস মেসেজ মাঝেমধ্যে ইনবক্সে চলে আসে, যা কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে।
  • স্লো ইন্টারনেটে পারফরম্যান্স ড্রপ: ইমো বা ফেসবুক লাইটের মতো অত্যন্ত দুর্বল নেটওয়ার্কে (যেমন ২জি) ভাইবার প্রপারলি কাজ করতে পারে না। ভালো এক্সপেরিয়েন্সের জন্য স্থিতিশীল ৪জি বা ওয়াই-ফাই কানেকশনের প্রয়োজন হয়।

শেষ কথা ও আমাদের রায় (Conclusion)

নিরাপত্তা, হাই-কোয়ালিটি কলিং এবং আন্তর্জাতিক ল্যান্ডলাইন কলের (Viber Out) সুবিধার কথা বিবেচনা করলে Viber একটি অত্যন্ত মডার্ন এবং প্রিমিয়াম মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন। আপনি যদি ইমোর বিরক্তিকর ভিডিও বিজ্ঞাপন থেকে মুক্তি চান এবং হোয়াটসঅ্যাপের বাইরে একটি নিরাপদ ও ফিচার-সমৃদ্ধ মেসেজিং অ্যাপ ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে চান, তবে ভাইবার আপনার জন্য একটি সেরা চয়েস হতে পারে।

ভাইবারের ‘এআর লেন্স’ নাকি ‘হিডেন চ্যাট’—কোন ফিচারটি আপনার সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়, তা নিচে কমেন্ট করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

মিঠুন সরকার

BSc in CSE, MCS — Dinajpur IT Park-এর প্রোপ্রাইটর।