Recovering Deleted Files: ফাইল রিকভারি

Recovering Deleted Files ফাইল রিকভারি

Recovering Deleted Files: ফাইল রিকভারি

অফিসের অত্যন্ত জরুরি কোনো ডকুমেন্ট, ক্লায়েন্টের প্রজেক্ট ফাইল কিংবা শখের কোনো ছবি বা ভিডিও কি ভুলবশত পিসি থেকে ডিলিট হয়ে গেছে? এমনকি রিসাইকেল বিন (Recycle Bin) খালি করে ফেলার পর বা কীবোর্ড থেকে Shift + Delete চেপে পার্মানেন্টলি ডিলিট করার পর কি ভাবছেন ফাইলগুলো চিরতরে হারিয়ে গেল? উইন্ডোজ পিসি, ল্যাপটপ বা এক্সটার্নাল ড্রাইভ থেকে মুছে যাওয়া যেকোনো ডাটা নিখুঁতভাবে উদ্ধার করার আসল টেকনিক্যাল উপায়গুলো জানুন।

যখন উইন্ডোজ থেকে কোনো ফাইল পার্মানেন্টলি ডিলিট করা হয়, তখন কিন্তু ফাইলটি মাদারবোর্ড বা স্টোরেজ চিপ থেকে সাথে সাথে মুছে যায় না। উইন্ডোজ কেবল তার ইনডেক্স টেবিল থেকে ওই ফাইলের লোকেশন মার্কিংটি তুলে নেয় এবং সেই জায়গাটুকুকে নতুন ডাটা রাখার জন্য ফাঁকা বা “Unallocated” হিসেবে ঘোষণা করে। যতক্ষণ না সেই খালি জায়গায় নতুন কোনো ফাইল রাইট (Overwrite) করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিশেষ টেকনিক্যাল টুলের সাহায্যে সেই হিডেন ডাটা শতভাগ রিকভার করা সম্ভব। নিচে ফাইল রিকভারির প্রফেশনাল ধাপগুলো দেওয়া হলো:

১. উইন্ডোজের বিল্ট-ইন ‘Windows File Recovery’ টুল ব্যবহার (CMD Method)

উইন্ডোজ ১০ এবং ১১-এর জন্য মাইক্রোসফটের একটি অফিশিয়াল ও অত্যন্ত পাওয়ারফুল কমান্ড-লাইন ডাটা রিকভারি টুল রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ফ্রিতে কাজ করে।

  • প্রথমে মাইক্রোসফট স্টোর (Microsoft Store) থেকে “Windows Search” বা সরাসরি Windows File Recovery অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন।
  • উইন্ডোজ সার্চ বারে CMD লিখে রাইট ক্লিকের মাধ্যমে Run as administrator হিসেবে ওপেন করুন।
  • ধরুন আপনার C: ড্রাইভ থেকে একটি ডিলিট হওয়া ফাইল রিকভার করে তা E: ড্রাইভে সেভ করতে চান, তবে সিএমডিতে নিচের কমান্ডটি টাইপ করে এন্টার চাপুন: winfr C: E: /regular /n \Users\<username>\Documents\ (এখানে কাস্টম পাথ বা ফাইল ফরম্যাট যেমন— /n *.png বা /n *.mp4 লিখে সুনির্দিষ্ট ছবি বা ভিডিও খোঁজা সম্ভব)

২. প্রফেশনাল থার্ড-পার্টি ডাটা রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার

যদি কমান্ড প্রম্পট জটিল মনে হয়, তবে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসযুক্ত বিশ্বস্ত এবং প্রফেশনাল রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • Recuva (ফ্রি ও সহজ): সাধারণ ডিলিট হওয়া ফাইল দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য এটি চমৎকার। সফটওয়্যারটি ওপেন করে নির্দিষ্ট ড্রাইভ সিলেক্ট করে Deep Scan অন করে দিলেই এটি উইন্ডোজের ওল্ড ডিরেক্টরি টেবিল খুঁজে ফাইল বের করে আনবে।
  • EaseUS Data Recovery / Wondershare Recoverit (অ্যাডভান্সড): যদি পুরো ড্রাইভ ফরম্যাট হয়ে যায় বা পার্টিশন লস্ট হয়, তবে এই প্রিমিয়াম টুলগুলো ডিস্কের প্রতিটি সেক্টর (Sector-by-Sector) স্ক্যান করে জটিল ডাটা স্ট্রাকচার রিকভার করতে পারে।

৩. ‘Previous Versions’ বা ফাইল হিস্ট্রি (File History) থেকে উদ্ধার

উইন্ডোজে যদি ব্যাকআপ ফিচারটি আগে থেকে কনফিগার করা থাকে, তবে কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই ফাইল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।

  • যে ফোল্ডারের ভেতর আপনার ফাইলটি ছিল, সেই ফোল্ডারটির ওপর রাইট ক্লিক করে Properties-এ যান।
  • ওপরের মেনু থেকে Previous Versions ট্যাবে ক্লিক করুন।
  • এখানে আপনার ডিলিট হওয়ার আগের কিছু ডেট ও টাইমের ব্যাকআপ তালিকা দেখতে পাবেন। সবচেয়ে কাছের টাইমটি সিলেক্ট করে Restore বাটনে ক্লিক করলেই ফাইলটি আগের জায়গায় ফিরে আসবে।

ফাইল রিকভারি করার সময় ৩টি মারাত্মক ভুল (Engineers Warning)

ভুলবশত ডাটা ডিলিট হওয়ার পর অধিকাংশ ইউজার কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন, যার কারণে ফাইল চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। ডাটা রিকভার করতে চাইলে এই ভুলগুলো করা যাবে না:

  1. একই ড্রাইভে নতুন ফাইল না রাখা (No Overwriting): যে ড্রাইভ বা পেনড্রাইভ থেকে ফাইল ডিলিট হয়েছে, ডাটা রিকভার করার আগে সেটিতে নতুন কোনো ফাইল কপি করবেন না, কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করবেন না, এমনকি ব্রাউজার দিয়ে ভারী কোনো কিছু ডাউনলোডও করবেন না। নতুন ডাটা প্রবেশ করলেই তা পুরোনো ডিলিট হওয়া ফাইলের স্পেসটি ওভাররাইট (Overwrite) করে নষ্ট করে দেবে।
  2. একই ড্রাইভে রিকভারি ফাইল সেভ না করা: ডিলিট হওয়া ফাইল স্ক্যান করার পর যখন তা সেভ বা রিকভার করবেন, তখন সর্বদা অন্য কোনো ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক সিলেক্ট করুন। যেমন— C: ড্রাইভের ফাইল রিকভার করে কখনই পুনরায় C: ড্রাইভে সেভ করবেন না, অন্যথায় রিকভারি ফাইল নিজেই নিজেকে ড্যামেজ করে দেবে।
  3. এসএসডি (SSD) বনাম হার্ডডিস্ক (HDD) জটিলতা: আপনার পিসিতে যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং ডাটা মেমোরি হিসেবে পুরোনো মেকানিক্যাল হার্ডডিস্ক থাকে, তবে ফাইল রিকভারি করা তুলনামূলক অনেক সহজ। কিন্তু যদি আধুনিক NVMe M.2 SSD ব্যবহার করেন, তবে উইন্ডোজের ডিফল্ট TRIM কম্যান্ড ব্যাকগ্রাউন্ডে ইনঅ্যাক্টিভ ডাটা ব্লকগুলোকে সাথে সাথেই পুরোপুরি ফ্ল্যাশ বা ক্লিন করে দেয়, যার ফলে এসএসডি থেকে পার্মানেন্ট ডিলিট হওয়া ফাইল রিকভার করার সাকসেস রেট বেশ কম।

ইঞ্জিনিয়ার্স নোট: ডাটা লস বা ডিজিটাল হাইজ্যাকিং এড়ানোর একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো নিয়মিত ব্যাকআপ পলিসি মেইনটেইন করা। আপনি যদি হাই-এন্ড ও পাওয়ারফুল হার্ডওয়্যার সংবলিত পিসি ব্যবহার করেন কিংবা প্রফেশনাল কোনো ডেভলপমেন্ট বা কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের কাজ করেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট ফাইলগুলো পিসির লোকাল ড্রাইভের পাশাপাশি ক্লাউড স্টোরেজে অটো-সিঙ্ক (Auto-Sync) করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম। আপনাদের পিসির যেকোনো জটিল ডাটা রিকভারি, হার্ডডিস্ক টু এসএসডি ক্লোনিং, পার্টিশন লকিং সমস্যা সমাধান কিংবা প্রফেশনাল আইটি সাপোর্টের জন্য আপনারা সরাসরি আমাদের Dinajpur IT Park-এ যোগাযোগ করতে পারেন.


Leave a Reply