গুগল ক্রোম (Google Chrome), ফায়ারফক্স বা অন্য কোনো ব্রাউজার ওপেন করলেই কি আপনার সেট করা ডিফল্ট হোমপেজের বদলে অচেনা কোনো সার্চ ইঞ্জিন চলে আসছে? কিংবা কোনো সাইটে ক্লিক করলেই অনবরত রিডাইরেক্ট (Redirect) হয়ে আজেবাজে ওয়েবসাইট, লটারি বা ফেক সিকিউরিটি ওয়ার্নিংয়ের পপ-আপ অ্যাড চালু হয়ে যাচ্ছে? ইন্টারনেটের এই চরম বিরক্তিকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যাটিকে টেকনিক্যাল ভাষায় Browser Hijacking বলা হয়। পিসির ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স ও প্রাইভেসি সুরক্ষিত রাখতে এই সমস্যাটি গোঁড়া থেকে উপড়ে ফেলার প্রফেশনাল উপায়গুলো জানুন।
ব্রাউজার হাইজ্যাকিং মূলত ঘটে যখন কোনো ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার, অ্যাডওয়্যার (Adware) বা ত্রুটিপূর্ণ এক্সটেনশন আপনার অজান্তেই ব্রাউজারের ইন্টারনাল কনফিগারেশন পরিবর্তন করে ফেলে। এরা আপনার ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন, হোমপেজ এবং নতুন ট্যাবের ইউআরএল (URL) লক করে দেয়, যাতে আপনি বাধ্য হয়ে তাদের স্প্যাম সাইটগুলো ভিজিট করেন এবং তারা অ্যাড ভিউ জেনারেট করতে পারে। নিচে এটি স্থায়ীভাবে ফিক্স করার সুনির্দিষ্ট প্রфেশনাল ধাপগুলো দেওয়া হলো:
১. সন্দেহভাজন এবং ক্ষতিকারক ব্রাউজার এক্সটেনশন ডিলিট করা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফ্রি থার্ড-পার্টি এক্সটেনশন বা টুলবারের মাধ্যমে এই হাইজ্যাকিং স্ক্রিপ্টগুলো ব্রাউজারে গেড়ে বসে।
- গুগল ক্রোম ওপেন করে ওপরের ডান কোণায় থাকা থ্রি-ডট মেনু থেকে Extensions > Manage Extensions-এ যান।
- আপনার ইনস্টল করা এক্সটেনশনগুলোর তালিকা খুব ভালো করে লক্ষ্য করুন। এমন কোনো এক্সটেনশন যা আপনি নিজে ইনস্টল করেননি কিংবা যা সন্দেহজনক মনে হয় (যেমন: কোনো অজানা ভিপিএন, অ্যাড-ব্লকার বা কুপন ফাইন্ডার), সেটির নিচের Remove বাটনে ক্লিক করে পিসি থেকে চিরতরে ডিলিট করে দিন।
২. ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন এবং হোমপেজ সেটিংস রিসেট করা
এক্সটেনশন ডিলিট করার পর ব্রাউজারের মূল সার্চ ইঞ্জিন ও হোমপেজ সেটিংসটি ম্যানুয়ালি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
- ক্রোমের Settings-এ যান এবং বাম পাশের মেনু থেকে Search engine অপশনে ক্লিক করুন।
- “Search engine used in the address bar” ড্রপডাউন থেকে আপনার পছন্দের ইঞ্জিনটি (যেমন: Google) সিলেক্ট করুন। এরপর নিচে থাকা Manage search engines and site search-এ গিয়ে গুগল ছাড়া বাকি সব অজানা বা ভুয়া সার্চ ইঞ্জিনগুলো থ্রি-ডটে ক্লিক করে Delete করে দিন।
- এবার বাম পাশের মেনু থেকে On startup অপশনে যান। সেখানে “Open a specific page or set of pages” সেকশনে যদি কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইটের লিঙ্ক অ্যাড করা থাকে, তবে তা রিমুভ করে দিয়ে “Open the New Tab page” সিলেক্ট করুন।
৩. ব্রাউজার সেটিংস সম্পূর্ণ ফ্যাক্টরি রিসেট (Reset Settings) করা
যদি ভেতরের কোনো হিডেন স্ক্রিপ্ট সেটিংস লক করে রাখে, তবে পুরো ব্রাউজার আর্কিটেকচার ফ্যাক্টরি ডিফল্ট মোডে রিসেট করাই সবচেয়ে সহজ সমাধান।
- ক্রোমের Settings > Reset settings অপশনে যান।
- সেখান থেকে “Restore settings to their original defaults” বাটনে ক্লিক করুন।
- একটি পপ-আপ উইন্ডো আসলে Reset settings কনফার্ম করুন। এটি আপনার হোমপেজ, নতুন ট্যাব, সার্চ ইঞ্জিন এবং পিন করা ট্যাবগুলো রিসেট করে দেবে। সেই সাথে সব এক্সটেনশন সাময়িকভাবে ডিজেবল করবে এবং কুকিজ ও ক্যাশ ফাইল সম্পূর্ণ ক্লিন করে ব্রাউজারকে একদম নতুনের মতো ফ্রেশ করে দেবে (এতে আপনার সেভ থাকা পাসওয়ার্ড বা বুকমার্ক ডিলিট হবে না)।
৪. উইন্ডোজ কন্ট্রোল প্যানেল থেকে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার আনইনস্টল
অনেক সময় ব্রাউজার হাইজ্যাকিংয়ের মূল সোর্সটি ব্রাউজারের ভেতরে নয়, বরং উইন্ডোজের ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি রানিং সফটওয়্যার হিসেবে লুকিয়ে থাকে।
- উইন্ডোজ সার্চ বারে Control Panel লিখে ওপেন করুন এবং Programs > Programs and Features-এ যান।
- পিসিতে ইনস্টল থাকা সব অ্যাপের তালিকাটি “Installed On” কলামে ক্লিক করে ডেট অনুযায়ী সাজিয়ে নিন।
- অতি সম্প্রতি বা আপনার অজান্তে ইনস্টল হয়ে যাওয়া কোনো অপরিচিত, ক্র্যাক বা সন্দেহভাজন সফটওয়্যার (যেমন: Chromium, কোনো ফ্রি ডাউনলোডার বা টুলবার) দেখতে পেলে সেটির ওপর রাইট ক্লিক করে Uninstall করে দিন।
৫. উইন্ডোজ সেফ মোড (Safe Mode) ও ম্যালওয়্যার ডিপ স্ক্যান
যদি উপরের কোনো ধাপেই আজেবাজে সাইট ওপেন হওয়া বন্ধ না হয়, তবে বুঝতে হবে কোনো ট্রোজান বা অ্যাডওয়্যার উইন্ডোজের কোর ফাইলে জায়গা করে নিয়েছে।
- কীবোর্ড থেকে
Win + Rচেপে রান বক্সেmsconfigলিখে এন্টার দিন। Boot ট্যাবে গিয়ে Safe boot বক্সে টিক দিয়ে ওকে করুন এবং পিসি রিস্টার্ট দিন। - পিসি সেফ মোডে (Safe Mode) অন হওয়ার পর একটি প্রফেশনাল অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার (যেমন: Malwarebytes বা Windows Defender Full Scan) দিয়ে পুরো সিস্টেম ডিপ স্ক্যান করুন। এটি হাইজ্যাকিংয়ের মূল ব্যাকএন্ড ফাইলগুলো সনাক্ত করে পার্মানেন্টলি ডিলিট করে দেবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স নোট: ব্রাউজার হাইজ্যাকিং মূলত ছড়ায় যখন আমরা কোনো ওয়েবসাইট থেকে পাইরেটেড গেম বা ক্র্যাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে যাই। আপনি যদি NVIDIA GeForce RTX 5060-এর মতো একটি হাই-এন্ড গেমিং বা প্রফেশনাল ডেভলপমেন্ট পিসি ব্যবহার করেন, তবে থার্ড-পার্টি আনভেরিফাইড সাইট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোডের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকুন. ডাউনলোড করার সময় ভুলেও কোনো স্প্যাম পপ-আপ বা নোটিফিকেশন পারমিশনে “Allow” ক্লিক করবেন না। আপনাদের পিসির যেকোনো জটিল ম্যালওয়্যার রিমুভাল, উইন্ডোজ অপ্টিমাইজেশন কিংবা প্রফেশনাল আইটি সাপোর্টের জন্য আপনারা সরাসরি আমাদের Dinajpur IT Park-এ যোগাযোগ করতে পারেন.
