SEO Meta Data
- Meta Title: Shortcut Virus সমাধান | পেনড্রাইভের ফাইল শর্টকাট হওয়া দূর করার নিয়ম
- Meta Description: আপনার পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ডের সব ফাইল কি শর্টকাট হয়ে গেছে? কোনো থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার ছাড়াই সিএমডি (CMD) দিয়ে শর্টকাট ভাইরাস দূর করার প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল গাইড।
Shortcut Virus: পেনড্রাইভের ফাইল শর্টকাট হওয়া
পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড কম্পিউটারে প্লাগ ইন করার পরেই কি দেখছেন আপনার দরকারি সব ফোল্ডার গায়েব হয়ে সেগুলোর নামের পাশে ছোট একটি অ্যারো বা Shortcut আইকন ঝুলে আছে? আর সেই শর্টকাট ফোল্ডারগুলোতে ডাবল ক্লিক করলে ফাইল ওপেন না হয়ে উল্টো পিসি হ্যাং করছে কিংবা এরর দেখাচ্ছে? উইন্ডোজ ইউজারদের জন্য অত্যন্ত পরিচিত এবং মারাত্মক ছোঁয়াচে এই সমস্যাটিকে টেকনিক্যাল ভাষায় Shortcut Virus বলা হয়।
পেনড্রাইভের ভেতরের মূল ফাইলগুলোকে ডিলিট না করে, কোনো থার্ড-পার্টি রিকভারি সফটওয়্যার ছাড়াই কমান্ড প্রম্পটের (CMD) মাধ্যমে এই ভাইরাসটি গোঁড়া থেকে ধ্বংস করে ফাইল উদ্ধার করার প্রফেশনাল টেকনিক্যাল গাইডটি নিচে দেওয়া হলো।
শর্টকাট ভাইরাস কীভাবে কাজ করে?
শর্টকাট ভাইরাস মূলত একটি ক্ষতিকারক স্ক্রিপ্ট বা ট্রোজান ম্যালওয়্যার। এটি আপনার পেনড্রাইভ বা পিসিতে প্রবেশ করার পর মূল ফাইল বা ফোল্ডারগুলোকে ডিলিট করে না; বরং সেগুলোকে উইন্ডোজের ব্যাকহ্যান্ডে সম্পূর্ণ Hidden (লুকানো) এবং System File হিসেবে লক করে দেয়। এরপর হুবহু সেই নামের একটি ভুয়া শর্টকাট ফাইল (.lnk এক্সটেনশনসহ) সামনে ঝুলিয়ে রাখে। আপনি যখনই না বুঝে ওই শর্টকাটে ডাবল ক্লিক করেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে ভাইরাসের মূল কোডটি আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ ডিরেক্টরিতে রান হয়ে যায় এবং পুরো পিসিকে ইনফেক্ট করে ফেলে।
সিএমডি (CMD) দিয়ে পেনড্রাইভের শর্টকাট ভাইরাস দূর করার নিয়ম
এই ভাইরাসটি সাধারণ অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করলে অনেক সময় ভাইরাসের স্ক্রিপ্ট ডিলিট হলেও লুকানো ফাইলগুলো আর ফিরে আসে না। তাই উইন্ডোজের কমান্ড প্রম্পট ব্যবহার করে ফাইল রিলিজ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রফেশনাল নিয়ম।
- ধাপ ১ (পেনড্রাইভের ড্রাইভ লেটার চেক): প্রথমে আপনার ইনফেক্টেড পেনড্রাইভটি পিসিতে কানেক্ট করুন। This PC ওপেন করে দেখে নিন পেনড্রাইভের নামের পাশে ব্র্যাকেটে কোন ড্রাইভ লেটারটি দেখাচ্ছে (যেমন:
E:,F:, অথবাG:)। ধরুন, আপনার পেনড্রাইভের ড্রাইভ লেটারটি হলোG:। - ধাপ ২ (CMD অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোডে ওপেন): উইন্ডোজ সার্চ বারে CMD লিখুন। এবার Command Prompt অপশনটির ওপর রাইট ক্লিক করে Run as administrator হিসেবে ওপেন করুন।
- ধাপ ৩ (পেনড্রাইভ ডিরেক্টরিতে প্রবেশ): সিএমডি উইন্ডো ওপেন হলে আপনার পেনড্রাইভের লেটারটি টাইপ করে (যেমন:
G:) কীবোর্ড থেকেEnterচাপুন। এতে সিএমডি আপনার পেনড্রাইভের ভেতরে প্রবেশ করবে। - ধাপ ৪ (ম্যাজিক্যাল কমান্ড রান করা): এবার পেনড্রাইভের ভেতরের সব হিডেন ফাইল আনলক করতে এবং ভুয়া শর্টকাট ফাইলগুলো রিলিজ করতে নিচের কমান্ডটি হুবহু টাইপ করুন এবং
Enterচাপুন:attrib -h -r -s /s /d *.*
💡 এই কমান্ডটির টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা:
-h: ফাইলগুলোর ওপর থেকে ‘Hidden’ বা লুকানো স্টেটমেন্ট তুলে নেয়।-r: ফাইলগুলোর ‘Read-only’ (যা পরিবর্তন করা যায় না) মোড ডিজেবল করে।-s: ফাইলগুলোকে উইন্ডোজের ‘System file’ লক থেকে সাধারণ ফাইলে রূপান্তর করে।/sএবং/d: পেনড্রাইভের ভেতরের মূল ডিরেক্টরির পাশাপাশি সাব-ফোল্ডারগুলোর ওপরেও এই কমান্ডটি ফোর্স অ্যাপ্লাই করে।- ধাপ ৫ (ভুয়া ফাইল ডিলিট ও ফাইল উদ্ধার): কমান্ডটি রান হওয়ার পর পেনড্রাইভে ডেটা বেশি থাকলে সিএমডি কিছুটা সময় (কয়েক সেকেন্ড) নিতে পারে। প্রসেস শেষ হলে পেনড্রাইভে ঢুকে দেখতে পাবেন একটি নামহীন আনলকড ফোল্ডার তৈরি হয়েছে, যার ভেতর আপনার আগের সব অরিজিনাল ফাইল অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছে। এবার পেনড্রাইভে থাকা সেই ভুয়া শর্টকাট ফাইলগুলো (
.lnkফাইল) ম্যানুয়ালি সিলেক্ট করে পার্মানেন্টলি ডিলিট (Shift + Delete) করে দিন।
পিসি থেকে শর্টকাট ভাইরাসের সোর্স ডিলেট করার নিয়ম
পেনড্রাইভ ক্লিন করার পরও যদি পিসিতে ভাইরাসটি থেকে যায়, তবে আবার পেনড্রাইভ ঢোকালেই সেটি শর্টকাট হয়ে যাবে। উইন্ডোজের ব্যাকএন্ড থেকে এটি পার্মানেন্টলি ক্লিন করার উপায়:
- কীবোর্ড থেকে
Ctrl + Shift + Escচেপে Task Manager ওপেন করুন। Startup apps ট্যাবে গিয়ে দেখুনwscript.exeবা কোনো অজানা কাস্টম স্ক্রিপ্ট (.vbsবা.batফাইল) চালু আছে কি না। থাকলে সেটির ওপর রাইট ক্লিক করে Disable করে দিন। - কীবোর্ড থেকে
Win + Rচেপে রান বক্সে%temp%লিখে এন্টার দিন। টেম্পোরারি ফোল্ডার ওপেন হলে ভেতরের সব ফাইল ডিলিট করে দিন। কারণ এই ডিরেক্টরিতেই শর্টকাট ভাইরাসের মূল এক্সিকিউটেবল ফাইলগুলো লুকিয়ে থাকে।
ইঞ্জিনিয়ার্স নোট: শর্টকাট ভাইরাস মূলত ছড়ায় যখন আমরা কোনো দোকান বা অন্য কারও ইনফেক্টেড পিসিতে নিজের পেনড্রাইভটি প্লাগ ইন করি। পিসির দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে বাঁচতে পাইরেটেড বা ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি গেমিং পিসি ব্যবহার করেন, তবে এই ভাইরাসগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস জ্যাম করে জিপিইউ এবং প্রসেসরের পারফরম্যান্স কমিয়ে দিতে পারে। আপনার পিসির যেকোনো ওল্ড ভাইরাস ক্লিয়ারিং, নেটওয়ার্কিং জটিলতা, হার্ডওয়্যার ট্রাবলশুটিং কিংবা প্রফেশনাল আইটি সাপোর্ট গাইডের জন্য আপনারা সরাসরি আমাদের Dinajpur IT Park-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
